মতিন বৈরাগী’র কবিতা

মতিন বৈরাগী’র কবিতা

ভাগ
PaidVerts

নির্বাচিত কবিতা:

০১. মাত্র কিছুক্ষণ আগে
০২. জগৎটা দাঁড়িয়ে আছে?
০৩. মাৎস্যন্যায়
০৪. মাথার গল্প
০৫. সমতার ভালোবাসা
০৬. ছুঁড়ে দিতে পারতো একটা হাসি
০৭. ভুলে গেছে নাম
০৮. মানুষের গল্প

মাত্র কিছুক্ষণ আগে
২০.১১.১৩

মাত্র কিছুক্ষণ আগে যে বাড়িগুলোয় দৌঁড়-ঝাপ করছিলো ইঁদুর হঠাৎ সেগুলোর জৌলুস ঝলকে উঠলো টিম-টিমে বাতিগুলো খল খল করে হাসছে সঙ্গম-সুখী রমনীর মতো আর চপ্পলের শব্দ, জামার আস্তিনের খশ খশ আওয়াজ আর ফুলের তোড়ায় তোড়ায় ভরে ওঠা প্রথম সকালÑ মহার্ঘ হাসি ছলকে পড়ছে পান-পাত্রে উপচে পড়া মদের মতো আর তখন প্রগলভ হাসিটি ছিনিয়ে নিয়ে চিরকালের চাটুকরগণ লোভের ঠোঁট মেলেদিয়ে বলে যাচ্ছে লাগামহীন স্তুতিÑদেয়ালগুলো পান্ডুর আর কার্পেটের বুক চিরে বেরিয়ে আসছে ধুলির আর্তনাদÑ
কতোদিন পরে আহা, কতোদিন পরে হায় ঈশ্বরÑ এই সেই মহা-সময়ের সন্ধিক্ষণ! কতো রাত্রির অপেক্ষা কিন্তু প্রকাশ নেই ভাষার তোলপাড় নেই কেবল চোখমুখে দূর আলোর খেলা বললেন মৃদু : সবার জন্য সকলের কল্যাণের জন্য কাজ হলো আজ আপনারা বেরিয়ে পড়–ন কাজে নামুন ওদের কাছে যেতে হবে সময়তো বেশি নেই মাত্র ক’টা দিন আর গদগদ সাক্ষাৎ-প্রার্থিরা ফুলগুলো ছিটালো,গলায় পরালো এবং হাতে তুলে বলল আমরা জানতাম, কতো মোনাজাতÑ প্রভু শুনেছেনÑশুকরিয়াÑ
এবং অনেকদিন অবহেলায় চুপÑচাপ শুয়ে বসে থাকা যৌবনহারা বেগমেরা হঠাৎ ষোড়শীর মতো পাশে এসে বসলেন বিড়াল পায়ে ইশারায় ডাকলেন দু’একজন যারা ভবিষ্যত তারপর ফিশ-ফাশ ফিশ-ফাশÑ যা তারা ঠিক করেছিলো রাতে দারুণ এক রতি-সম্ভোগক্ষণে
হায়, বাইরে বেদনার সূর্য আলো ফেলিয়াছে পথেÑ বিষণœ এক দিনÑ দিক ভ্রান্ত মানুষ হাঁটছে পথÑলিখছে প্রতিদিনকার দিনলিপি

জগৎটা দাঁড়িয়ে আছে ?
০৪.১১.১৩.

জগৎটা দাঁড়েিয় আছে নাকি শেষ হয়ে গেছে ? এখন তুমি লাশ, পড়ে আছো সড়কে। হাওয়া উড়ছে. ধুলো, বুটের আওয়াজথ তুমি কী ঘুমিয়ে গেছো উদোম সড়কে! মাত্র কয়েক মূহুর্ত হৈ চৈ, ভাঙচূর, চিৎকার শ্লোগান মানিনার তারস্বর, তারপর এক পাখি-মৃত। একটা গর্ত এফোঁড়-ওফোঁড় । ছট-ফট ছট-ফট হাত-পায়ের দাপানি. কেউ তোলেনি । নিয়তি ! তির তির কাঁপছিল চোখের তারা । তুমি কী চাইছিলে কেউ তোমাকে তুলুক, নাম, নামথ হাসপাতাল,কেউ আসেনি। তুমি পড়ে আছো মুখগুঁজে মৃত নক্ষত্রের মতো হিম অন্ধকারে। মুছে গেছে চোখের আলোথকার প্রয়োজনে!
হায় রাজনীতি, পক্ষ-বিপক্ষের বিবৃতি দায় নির্ধারণ আর পিছনে দাঁড়িয়ে পুতুলের মাথার দোলন। তুমি ফিরতে পারবে না তুমি ফিরবেনা, ফিরতে পারবেনা র্আ । মা কাঁদবে. বাবা ভাঙ্গা বুকে খুঁজবে একটা মুখ আর প্রিয় বোনটি কেবল থাকবে অপেক্ষায়। একটা শব্দথ দাদা তুই এলি? । হায় এ মৃত্যু কার জন্যে প্রতিদিন, প্রতিবার…?

মাৎস্যন্যায়

০১.
প্রতিদিনের ঘটনাবলী সাক্ষ্য দেয় যেথ আমাদের জীবন থেকে খসে পড়েছে ন্যায়ের পোশাক জীবিত ও মৃতের ব্যবধান এখন কেবল নাক আর চোখের ফারাক, বিবেক নীরব মৃতেরা হাঁটছে অলিতে গলিতে: বাতাসে পার হচ্ছে এঘর-ওঘর দিনরাত তাহাদের ওঠা-নামা কানামাছির খেলা তিথির উৎসব থ
নীরব রজণীতে আকাশের নক্ষত্ররা যখন তাকায় মিটি মিটি তাহাদের আলোয় জীবিতরা মৃতের মতো মৃতের কাছাকাছি জীবিত মৃতের আদল জীবিত নয়, শাস্ত্রমতেথ
ধুলো আর ধুলিতে ধুলোর ধূলায় পৃথিবী ধুলিময় পাখিরা পালায় জন-অরণ্য হতে মানুষ নত হয় হত হয় শকুনরা আকাশ ভেঙে নেমে আসে দীর্ণ করে মানুষের গৌরব নমিতরা দেখে তার পতাকা ধুলো কালি মাখা উড়ছে আকাশে অপমানের ছবিটি আঁকা এই ভাবে দিন শেষ হয় মৃতরা মৃতদের কাছে জীবিতরা সব খুঁটে খায়
২২.০৪.৯৯.

০২.
আমাদের চারপাশে মৃত্যুরা হাঁটা-হাঁটি করে, কথা বলে কখনো ঘাড়ের উপর হাত রেখে মশকরা করে, কাতুকুতু দেয় হাস্যে হাসিতে অনায়াসে বুক ফুটো করে ঢুকে পড়ে অন্দরে কখনো চমৎকার শিল্পের ভাঙ্গিতে হাত-পা ছিড়ে নিয়ে দিব্যি হেঁটে যায়, কাঁধে চড়ে ফুঁ-দিয়ে নিজেদের সুর বাজায় কিংবা সোজাসুজি মুন্ডের কাছে তাক করে ধাতব মাছিথ
আমরা আপাতত মৃত্যুকে বন্ধু জেনে উদ্ববন্ধন খুঁজি তাহারা আছে বেশ কাজে-কারবারে বিত্তে-অর্থে আমাদেরই সব যায় স্বপ্ন-স্বাধ ঘুম,জীবনের উম ঝুলে থাকে মৃত্যুর দরোজায়থ

মাথার গল্প

০১.
প্রাত ভ্রমণ। হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তার মোড়ে আমার সাথিদের জটলা । কী শুনছে তারা! পাগলা রমিজ চেঁচাচ্ছে। সামনে এগোলাম । পাগলা রমিজ বলছে তোদের মাথা কই, মাথা নেই , মাথা নেই। সবাই যেনো ধাঁধায় পড়ে গেছে । কেউ হাত দিয়ে দেখতে গিয়ে আবার নামিয়ে আনছে । আমার সংশয়, হাত দিয়ে দেখছি না । রমিজ চিল্লাচ্ছে মাথা কই. মাথা নেই, মাথা নেইথ নোট নেই ..ভোট নাই… নোট কই । ভিড়ের মধ্য থেকে কে একজন মৃদু বলল কি বলছো মাথা নেই! মাথা তো আছে, তুমি দেখছো না! রমিজ পাগলা হাসলো হি-হি-হি-
মাথা নেই, যে’ টা আছে কাগজেরথ নকল মাথা । দেখবে! এই বলে একজনের মাথা নাড়া দিতে খশ খশ শব্দ। তারপর শব্দ উঠতেই থাকালো এবং মনে হলো সারা দেশে টন টন কাগজ উল্টাচ্ছে কেউ । রমিজ একটু দূরে সরে আবার এলো এবং হাক দিয়ে বললো শুধু কী ঘাড়ের উপড়ে মাথা! তোদের নুনুর মাথাও নেইথ দেখ কাটা । আহা, আহা- সবাই নুনুর দিকে হাত নামাতে সে বলল: এই মাথা কাটা নুনু দিযে কিচ্ছু হয় না, না সংযোজন না বিসর্জন।
তারপর পাগলা রমিজ এমন ভাবে দাঁড়ালো, দেখে মনে হলো তার কাঁধের মাথাটা তার বাহুর বেষ্টনিতে হেলমেটের মতো। সে বলল: কাগজের মাথা নিয়ে ঘুরিস, এটা খোলাও যায় আবার লাগিয়ে হাঁটাও যায়, বুঝেছিস?
আমি বাসার দিকে ফিরছিলাম, পথে মনে হলো দেখিনা খোলা যায় কিনা – আমার সাহস হলো না, আমার কানে কেবল সেই সুরটাই বাজছে থমাথা নেইথ মাথা নেই. মাথা নেইথ নোট নেই, ভোট নেই. নোট চাইথ মাথা চাই … বাহ! বেশ, আমিও গাইছি।
৩০.১০.১৩.

০২.
হাঁটার ক্লান্তি , তন্দ্রা আসছে । মাথার মধ্যে গুন গুন করছি রমিজের সেই সুর। মাথা নেইথ মাথা নেইথনোট নেই, ভোট নেইথ এবং তারপর.. আমি হাঁটছি। রাস্তাটা যেনো কেমন কখনো দেখেছি!সবাই আমাকে দেখছে। না-কি আমিই দেখছি তাদের? দু’টো কুকুর বেশ ভালো করে দেখছে আমাকে, যেনো জিজ্ঞেস করবে জাতীয় পরিচয় আছে কী ? । কী জানি কি মতলব! মানুষগুলো কী চেনা?অচেনাও হতে পারে । পারেই-তো। আমরা কে আর কাকে তেমন করে চিনলাম । যাদের সংগে হেঁটেছিলাম তারা কী এরা! আমি যদি চিনি তা’হলে ওরাও আমাকে চিনবে লজিকতো এমনই । মনে হলো না, কেবল ওরা আমাকে দেখছে আর মিট মিট হাসছে । কে জানে এরা হয়তো রাস্তাগুলো দখল করেছে এই মাত্র। সারা দেশ দখল করবে, দখলের উৎসব! হতেও পারে । তাদের আদর্শ বাতাসে দুলছে । হতেও পারে আমার মাথাটা আর ঘাড়ের উপরে নেইথরমিজ যেরকম বলেছিলোথ খুলেও রাখা যায় । আমিও হয়তো ঘুমের ভেতর খুলে রেখেছিলাম।
রাস্তার মোড়ে দু’জন কথা বলছিলো তারা আমার দিকে তাকালো এবং কি একটা ছূড়তেই বিকট আওয়াজ। আমি এতক্ষণে বুঝতে পারলাম কিছু একটা ঘটছে । কিন্তু কি ঘটছে! তার সংগে আমার সংশ্রবই বা কী? আর আমাকে এভাবে দেখারই বা কারণ কী? সামনে করপোরেশন অফিস সেখানে কেশব আছে আমি ঢুকে দেখি কেশব দরকষাকষি করছে জন্ম নিবন্ধনে নোটের নিবন্ধন আগে। আমাকে দেখে সে অবাক হলো এবং এমন ভাবে তাকালো যেনো আমি একজন দেখার মতো কিছু। আর প্রতিটি টেবিলে ফিশ ফিশথ কি সব বলছে.. নোট ..নোট লাগবে..এতো কেন! না ভাই পারছি না .. আমি বেড়িয়ে পড়লাম । কোথায় যাবো যে দিকে হাঁটি যাদের দেখি কেমন যেনো তারা।
কিছুদূর এগুতেই এক বিশাল জনস্রোত, তাদের চিৎকার প্রতিরোধথ প্রতিরোধ, গণতন্ত্র গণতন্ত্র ! কিন্তু তার পর সবার চোখ আমার দিকে তারা হাসছে । আমি বুঝতে পারছি না তারা কেনো হাসছে । আমি দেখলাম তাদের কারো কারো হাতে অস্ত্র , কি যেনো বলছে । হঠাৎ কোথা থেকে সেই কুকুর দু’টি আমাকে তাড়া করতেই আমি দৌঁড় .. আমার লাাশ হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়া ।
আমার তন্দ্রা টুটে গেলো কিন্তু আমার মনে হলো আমার মাথাটা আর মাথাতে নেইথ
১৭.১১.১৩

সমতার ভালোবাসা

ভালোবাসার ভাষা চরমে উঠলে হুমকিতে ধামকিতে নাচতে থাকে সবথ প্রলয় নৃত্যে । তুমি যদি জিজ্ঞেস করো কিংবা অসুস্তি বোধ করো তা’ হলে শঙ্কা আরো বাড়বে। ঢাকের বাদ্যের মতো ভালোবাসা লাফিয়ে লাফিয়ে পাড় হবে নদী। আকাশে উড়বে বাজ। শৃগালগুলো হুয়াক্কাহুয়ায় দখলে নেবে অমল-ধবল শেফালি। জঙ্গল উজার হবে, জলাধার মুছে যাবে। দখল আর বেদখলের উৎসবে বেরিয়ে পড়বে ইতর প্রাণীরা, আর বিষ খাদ্যে ভরাবে বাজার।
তবু এই সব ভালোবাসার হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে না। দুষিত পানি নগরের নল বেয়ে পেট নামিয়ে দেবে। কিম্বা ভিটামিন-১, শুয়ে দেবে কফিনে শিশু, আর যেখানে যাবে ঘুষ ঘুষ, চাঁদা.,ঘুষথ তোমার কাঁধে চড়ে বলবে গুডবাই জনগণ। তোমাদের জন্যই এতো ভালোবাসাথতারপর স্বাস্থ্য-পান, চিয়ার্স… ।
তবুও বলো না ভালোবাসা চাই না । ভালোবাসায় বাঁচে মানুষ, দেশ আর স্বাধীনতা… তেমন ভালোবাসায় ওঠা-নামা নেই। উঁচু-নিচু নয় । সমতায় সমতটে রোদের মতো বিস্তার নেয়া জীবন-আনন্দ, আর তখন মধ্য-গগনে নোঙ্গর ফেলে চাঁদথ হাসে প্রেমিক পুরুষ।
২৪.১০.১৩.

ছুঁড়ে দিতে পারতো একটা হাসি

এই হাসির কোন পরিমাপ নেই, না সাধারণ কাটা-কামানে, না বিজ্ঞানের সুক্ষ্ম নিক্তিতে । কি অর্থ হয় ওই সব ইশারার! সে কী হারাণো কিছু পেয়ে যাবার ইঙ্গীত, নাকি কোনো কংক্রিটের ঝরে পড়া লাবণ্য! না-কী এক অদৃশ্য হাওয়ায় সারগন সোলেমানের উড়ে বেড়ানোর অলৌকিক কাহিনী? কী মানে বহন করে বাক্যথবিন্যাসের চাতুর্য ! শব্দ ভাঙে, ভেঙে ভেঙে রাজ্যের সীমা রেখার মতো অস্পষ্টতায় ডুবে থাকে।
আলেকজা তার ছেঁড়া আঁচল বাতাসে উড়িয়ে বলে এই দেখো স্বাধীনতা, আর বরগুনার গফ্ফার লঞ্চের ছাদে চিমনীর কালো ধোঁয়া জল-হাওয়ায় মিশে যাওয়া দেখে আর ভাবে স্বাধীনতা কী ধোঁয়ার মতো নাকি ঝড়ে উড়ানো পাতা ! আর বিষাক্ত বর্জ্য গিলে মরা নদী পুরাতন দিনের কথা ভেবে বয়ে যায়থ মরে যায়। তখন মাঝ নদীতে জেলেরা জাটকা মেরে বস্তা ভরে পানিতে ডুবিয়ে রাখে, আর রিভার পুলিশ জনকের মাথা গুনে পকেট চাপেথ ক’টা মাথা পাওয়া গেলো । মরা নদী আরো মরে যায়থ
কোন কিছুরই অর্থ খুঁজনা বলল: ভোরের বাতাস । যা কিছু বলা হলো তা’ আর যা বলা গেলো না তার পরিমাপ কী জানতেন আর্কিমিডিস! কিন্তু ওই যে কচুরি পানা ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছে তারা একদিন শেকড়ে মাটির নাগাল পেলে কী কান্ডটাই না ঘটাবে। মাত্র কয়েক দিনে হালকা বেগুনি ফুলে ভরে দেবে সমস্ত আকাশথস্বাধীনতায় ফুটাবে আনন্দ ।
তবুও ইশারা চলছে, অঙ্গ-ভঙ্গি, তর্জনীর ওঠা নামায় কাঁপছে রাত্রি আর বাক্য-বানের দুরূহতা কুঁকরে দিচ্ছে আগামীর সতেজ শিশুর জন্ম, যারা পরিমাপ যোগ্য একটা হাসি ছূঁড়ে দিতে পারতো সকালের মতো, পারতো তোথ

ভুলে গেছে নাম

কী নাম তার ভুলে গেছি । কেনো ভুলে গেছি সেই নাম? তা’ হলে কী তার কোন নাম ছিল না ? আমার নাম ! তাও কী মনে পড়ছে আমার? কী অর্থ এই নামের! ফুটপাতে যে মেয়েটি অনাবৃত দেহ দান যার অন্ন তারও কী একটা নাম আছে? কোথায় তার বাড়ি? রংপুর! সে-ওতো একটা নাম কয়েকটা অক্ষর। যারা বিত্তশালী ধনবান, তাদেরও নাম আছে । কারো না কারো সাথে ওই নামের মিল আছে, সাদৃশ্য আছে । তা’হলে কী অর্থ হয় ওই সব নামের!
আমার নামও মনে করতে পারছি না আর । আর গার্মেন্টস এর ক্রিতদাস খেতের মজুর তাদেরও একটা নাম আছে , মনে করতে পারছিনা কারো নাম । আমার বুদ্ধি প্রজ্ঞা বলছে কোন নাম নেই মানুষের। তারা কেবলই নাম হীন এক মানুষ তারা ভুল মানুষ, ভুল ঠিকানার মানুষ, ভুল রাষ্ট্রের মানুষ, ভুল সময়ের মানুষ । তারা এক অর্থহীন নাম নিয়ে ঘুরছে ।
তুমি কে হে, নাম নাম বলে চিৎকার করছো জনে জনে জিজ্ঞেস করছো এই নামের কাউকে চেনেন ? কেউ জবাব দিচ্ছেনা, কারণ তারাও মনে করতে পারছে না তাদের নিজ নাম । তারা ভুলে,গেছে পাখির নাম, ফুলের নাম শষ্যের নাম ফাগুনের লাল কৃষ্ণচূডাথ কারণ তাদের সামাজিক অবস্থান নেই তারা ব্রাত্য তারা নি:স্ব । আর নি:স্বদের নাম একটা বাড়তি বোঝা কেবল বিকৃত হয় । ২৩.১০.১৩.

মানুষের গল্প
১২.৯.১৩.

মাটির গহ্বরে জীবন ভর বন্দী মানুষ কখনো দেখেনা আলোর পৃথিবী গর্তমুখ দিয়ে যে বাতাস ছড়িয়ে পড়ে সেই তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস তারা দেখে অন্ধকারথ জীবনের এই এক বাস্তবতা তারা জানে আজীবন বন্দীত্বের অভ্যেসে তাদের হাত পা’ বাঁধা নড়বার ক্ষমতাও নেইথ ওই গুহায় সূর্য়ালোক পৌঁছায় না আলোর তরঙ্গে তীব্রতা নেই জানেনা উপরে আলোময় এক পৃৃথিবী আছে মানুষগুলো দেখে দেয়াল, দেয়ালে মশাল-আলোয় দেখে অনুচ্চ পর্দার প্রাচীর আর ওই পথ দিয়ে যারা চলছে বন্দীরা দেখছে ভোঁজবাজির মতো হেঁটে যায় কতোগুলো ছায়া তারা বিশ্বাস করছে মানুষগুলো শুধুই ছায়া তারা নিজেরাও নিজদেরে দেখেনা।
এরকম পৃথিবীর বিপুল মানুষ আজীবন আমরন শুধু ছায়া দেখে প্রতিধ্বনি শোনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার নানা ভঙ্গি দেখে দৃষ্টির-দেয়ালে তারা সত্যি মিথ্যের দূর কিংবা নিকট কোনটাই বুঝতে পারে না কেউ মুক্ত করতে চাইলে হিংস্র হয়ে তেড়ে আসে যেরকম সক্রেতিস অজ্ঞদের সত্য বলে প্রাণ দিয়েছিলেন তারা যা জানে তা’ এক ঈশ্বর যে কেবল অন্ধকার দিয়েছে আর এটাই বলছে প্রাচীরে হেঁটে যাওয়া ছায়াগুলো প্রতিদিন
আর তারা মান্য করছে এই সব বছরের পর বছর যুগের পর যুগ তারা শুধু ছায়া দেখে আর শোনে পরকালের সুখ-কাহিনী ছায়ারা যা বলছে রোজথ

PaidVerts