আসাদ চৌধুরির কবিতা

আসাদ চৌধুরির কবিতা

ভাগ
PaidVerts

আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক। তিনি মনোগ্রাহী টেলিভিশন উপস্থাপনা ও চমৎকার আবৃত্তির জন্যও জনপ্রিয়। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর পদচারণা। কবিতা ছাড়াও তিনি বেশ কিছু শিশুতোষ গ্রন্থ, ছড়া, জীবনী ইত্যাদি রচনা করেছেন। কিছু অনুবাদকর্মও তিনি সম্পাদন করেছেন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
তিনি একজন বাংলা একাডেমী পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি। তাঁর কবিতা গীতিময় এবং ছন্দোদ্ভাসিত। তাঁর ব্যঙ্গার্থক কবিতা ‘কোথায় পালালো সত্য’ একটি জনপ্রিয় পদ্য। সভ্যতার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি গত কয়েক দশকে মানবিক মূল্যবোধের যে করুণ অধোগতি, তারই প্রেক্ষাপটে একটি কবিতায় তিনি আক্ষেপ করেছেন –
“তখন সত্যি মানুষ ছিলাম
এখন আছি অল্প।”

জন্ম:

আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়াারি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী এবং মাতার নাম সৈয়দা মাহমুদা বেগম। আসাদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম সাহানা বেগম।

শিক্ষাজীবন:

আসাদ চৌধুরী উলানিয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন:

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে যাওয়ার পর কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে আসাদ চৌধুরীর চাকুরিজীবন শুরু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে ঢাকায় স্থিত হবার পর তিনি বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবদিকতা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানীর বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকায় বাংলা একাডেমীতে দীর্ঘকাল চাকুরীর পর তিনি এর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ:

কবিতা
তবক দেওয়া পান (১৯৭৫);
বিত্ত নাই বেসাত নাই (১৯৭৬);
প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় (১৯৭৬);
জলের মধ্যে লেখাজোখা (১৯৮২);
যে পারে পারুক (১৯৮৩);
মধ্য মাঠ থেকে (১৯৮৪);
মেঘের জুলুম পাখির জুলুম (১৯৮৫);
আমার কবিতা (১৯৮৫);
ভালোবাসার কবিতা (১৯৮৫);
প্রেমের কবিতা (১৯৮৫);
দুঃখীরা গল্প করে (১৯৮৭);
নদীও বিবস্ত্র হয় (১৯৯২);
টান ভালোবাসার কবিতা (১৯৯৭);
বাতাস যেমন পরিচিত (১৯৯৮);
বৃন্তির সংবাদে আমি কেউ নই (১৯৯৮);
কবিতা-সমগ্র (২০০২);
কিছু ফল আমি নিভিয়ে দিয়েছি (২০০৩);
ঘরে ফেরা সোজা নয় (২০০৬)।

প্রবন্ধ-গবেষণা

কোন অলকার ফুল (১৯৮২)

শিশুসাহিত্য

রাজার নতুন জামা (রূপান্তর, ১৯৭৯);
রাজা বাদশার গল্প (১৯৮০);
গ্রাম বাংলার গল্প (১৯৮০);
ছোট্ট রাজপুত্র (অনুবাদ : ১৯৮২);
গর্ব আমার অনেক কিছুর (১৯৯৬);
ভিন দেশের মজার লোককাহিনী (১৯৯৯);
তিন রসরাজের আড্ডা (১৯৯৯)
কেশবতী রাজকন্যা (২০০০);
গ্রাম বাংলা আরো গল্প (২০০০)
তোমাদের প্রিয় চার শিল্পী (জীবনী, ২০০০);
জন হেনরি (আমেরিকার লোককাহিনী, ২০০১);
মিকালেঞ্জেনো (জীবনী, ২০০১)
ছোটদের মজার গল্প (২০০১);
সোনার খড়ম (২০০৬);
মুচি-ভুতের গল্প (২০০৬)।

জীবনী

সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু (১৯৮৩);
রজনীকান্তসেন (১৯৮৯);
স্মৃতিসত্তায় যুগলবন্দী (২০০১)।

ইতিহাস

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৩)।

অনুবাদ

বাড়ির কাছে আরশিনগর : বাংলাদেশের উর্দু কবিতা (২০০০);
প্যালেস্টাইন ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিবাদী কবিতা (২০০৫)।

সম্পাদনা
যাদের রক্তে মুক্ত এদেশ (১৯৯১ যুগ্মভাবে);
ছয়টি রূপকথা (১৯৭৯)।

পুরস্কার ও সম্মাননা

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার বাংলা একাডেমী, একুশে পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার

আবুল হাসান স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫);
অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২);
বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৭);
শম্ভুগঞ্জ এনায়েতপুরী স্বর্ণপদক (১৯৯৯);
ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার,
বরিশাল বিভাগীয় স্বর্ণপদক,
অশ্বনী কুমার পদক (২০০১)
জীবনানন্দ দাশ পদক
অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক
জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (২০০৬)
বঙ্গবন্ধু সম্মাননা ১৪১৮
একুশে পদক, (২০১৩)
নির্বাচিত কবিতা:

০১. পর্যবেক্ষণ
০২. দেশান্তরী
০৩. গাছই শুধু
০৪. শহীদেও প্রতি
০৫. যে পারে পারুক, আমি পারবো না
০৬. বাতাসেও পদচিহ্ন
০৭. সাঁকো ভেঙ্গে যায়
০৮. কিছু ফুল আমি নিভিয়ে দিয়েছি
০৯. নদীও বিবস্ত্র হয়
১০. মৃতদেহ চুপচাপ থাকে
১১. সব তোমার
১২. শুধু কথাই তো বলি
১৩. আত্মজীবনী
১৪. জিঞ্জাসা
১৫. খাঁটি কথা
১৬. ঘুরিয়ে দিই?
১৭. তাহলে কিসের ভয়
১৮. আয়না
১৯. বৃক্ষের স্বভাবচরিত্র

 

 

 

পর্যবেক্ষণ : ১

কারো কারো
দুঃখের চামচি
জীবনের সমান মাপের।
দেশান্তরী

নির্বাসিত নয়,
দেশান্তরী একটু অভিমানী।
চিঠির পাহাড় জমে,
চাহিদার ফর্দগুলো
হিরের পালক-
এখনও সে চুমু খায় চাঁদের অধরে
হায়, পরবাসী, তার ঠোঁট পুড়ে যায়-

মেঘেদের উজ্জর জামা থেকে
গোপনতা খোলে যতœ করে,
মন্ত্র পড়ে পরবাসী, বশীভূত পরবাসী
সামান্য মাতাল হলে
সবখানে বাংলাদেশ দেখে-

নির্বাসিত নয়,
দেশান্তরী সত্যি বড়ো অভিমানী
না-হলে শুধায়,
কেন আমি দেশান্তরী, কে দেবে উত্তর?

গাছই শুধু

গাছই শুধু প্রতিবাদে
নাড়ছে পাতা
মানুষগুলে শান্ত বেড়াল
থাবা চাটে-
কুকুর নিজেই চাটছে নিজের
রক্ত মুখের
ভাবটা এমন হাড্ডি থেকেই
ঝরছে এ খুন।

গাছই শুধু প্রতিবাদে
নাড়ছে পাতা
মানুষ বড়ো শান্ত কেবল
থাবা চাটে।

শহীদের প্রতি
তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?
শেষ কথাটি সুখের ছিলো?
ঘৃণার ছিলো?
না কি ক্রোধের,
প্রতিশোধের,
কোনটা ছিলো?
না কি কোনো দুঃখের
না কি মনে তৃপ্তি ছিলো,
দীপ্তি ছিলো-
এই যাওয়াটাই সুখের।

তোমরা গ্যালে, বাতাস যেমন যায়-
গভীর নদী যেমন বাঁকা
স্রোতটিকে লুকায়,
যেমন পাখির ডানার ঝলক
গগনে মিলায়।
সাঁঝে যখন কোকিল ডাকে
কার্নিশে কি ধূসর শাখে,
বারুদেরুই গন্ধস্মৃতি
ভুবনে ফ্যালে ছেয়ে
ফুলের গন্ধ পরাজিত
শ্লোগান আসে ধেয়ে।

তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?

যে-পারে পারুক, আমি পারবো না

যে-পারে পারুক, আমি পারবো না মেনে নিতে
এই রইলো রক্তমাখা রাজার মুকুট,
মানুষের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। একটি ব্যর্থ ছায়া নিয়ে আমি চ’লে যাই।
মানব-সভ্যতা-আমি যাই সভ্যতার নামে আমি অনেক দেখেছি
আর নয়, যাই।
সুখ-যার জন্য মানুষের মতো পাগলামি, এতো হ্যাংলামি, না, না
আর নয় আমি যাই।
তিমিদের অসহায় আত্মহত্যা আমি আর সইতে পারি না।
অভুক্ত শিশুর কান্না, অপুষ্টিতে অকাল বার্ধক্যে নত
তৃতীয় বিশ্বের ভিক্ষুকের শীর্ণ হাত, আমি যাই।
রোগীদের সুতীব্র যন্ত্রণা, ক্ষুধা ও অভাব, অপচয়
শরণার্থী শিবিরের ভয়াবহ আর্তনাদ, নির্যাতন-
গুড বাই, যুদ্ধ গণহত্যা
গুড বাই, গুড বাই।
ঝকঝকে অস্ত্র, আর নয়, অস্ত্র নয়,
আণবিক বোমা, নিউট্রন নো মোরে-সব হাবিজাবি,
জলে ও বাতাসে আর মানববিধ্বংসী ষড়যন্ত্র নয়।
যে-পারে পারুক, আমি পারবো না মেনে নিতে
এই সব ক্রিয়া-কর্মে ঘেন্ন ধ’রে গ্যাছে।
বাতাসেও পদচিহ্ন

মাথা নয়
জন্ম-গোধুলিতে সূর্য ছুঁয়েছিলো
নরম, রক্তাক্ত দু’টি হাত!

শান্ত, মৌন অরণ্যের ব্রক্ষচর্যে
স্তব্ধতার স্বর

প্রয়োজনহীন জলের শরীরে ঝাঁকি দ্যায়।
সেখানে তৃষ্ণার জল ঠোঁ চাটে মোহন সন্ত্রাসে।
শক্তি আর হিংসার যুগলবন্দি
বাতাসেও পদচিহ্ন আঁকে।
নিকারি ও বাওয়ালীর গাঢ় স্বপ্ন, দম্ভ, প্রয়োজন
একে-একে গুঁড়ো হয়, রেণু, ক্রমে মিশে যায়।
সমস্ত ভুবনব্যাপী রণক্লান্ত থাবা প’ড়ে থাকে।

কেবল হরিণ জানে, হরিনীর ম্লান চোখ জানে
কোন ঘাটে অকস্মাৎ বাজুবন্ধ খ’সে প’ড়ে যায়।

সাঁকো ভেঙে যায়

সাঁকো ভেঙে যায়,
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আত্মীয়তা, কাঠ ও পেরেক।
ভেঙে যায় সব পারাপার।

মর্চে-পড়া পেরেকের প্রেমে
ডুবু-ডুবু ভাটিয়ালী
উজানে বকের কলরোল।

ছেড়ে যেতে মায়া লাগে? কষ্ট লাগে খুব?

বড়ো-সড়ো নিঃশ্বাসের সাথে
বিপন্ন গোধূলি গ’লে যায়,
চারিদিকে আঁধার ঘনায়।

ঠিকাদার হেসে ওঠে ভুতুড়ে গলায়।
কিছু ফুল আমি নিভিয়ে দিয়েছি

কিছু ফুল আমি নিভিয়ে দিয়েছি,
বেশি বেশি কেন জ্বলছিল?
যে কথা ভোলার, রক্ত ঝরঝর,
তার কথা শুধু বলছিল।
তাই ফুলগুলি নিভিয়ে দিয়েছি
লাল চোখগুলো টলছিল।
নদীও বিবস্ত্র হয়

নদীও বিবস্ত্র হয়, খুলে রাখে বেবাক বসন,
সূর্যাস্তের পর এই নদী-বহমান জলরাশি-
এমন রহস্যময়ী, যেন তাকে কখনো দেখি নি।
কিছু পরিচিত গাছ, অন্ধকারে কিংবা জ্যোৎস্নায়
কিছুটা আভাস দেয়, ইশারায় হাতে গুঁজে দেয়
অলৌকিক মানচিত্র-পরীক্ষায় অবৈধ নকল
পাখিরা ফিরেছে নীড়ে, মানুষেরা নিজ নিজ ঘরে,
গাছদের, নদীদের আচরণ প্রবাসীর মতো?
শুধু আয়? উপার্জন! বিস্মিত দৃষ্টির বিনিময়?
অনিচ্ছুক থেকে যাওয়া, মেলা ধরা কতোটা সম্পদ?

সূর্য ডুবে গেলে নদী একে একে সব বস্ত্র খোলে,
নিজেকে ভোলায় শুধু; অন্যেরাও ক্রমাগত ভোলে।

মৃতদেহ চুপচাপ থাকে

মৃতদেহ চুপচাপ থাকে,
মৃতদেহ কথা বলে কম, খুব কম কথা বলে।
আসলে লোবান আর আগরবাতি যে-ভুবন
গ’ড়ে তোলে, তাতে কথার সুযোগ কম,
স্মৃতিরা তাড়ন করে, মনে-মনে
অনর্গল কথা বলাবলি হয়-
কিন্তু মনে-মনে।

মাঝে-মাঝে সুবিশাল দীর্ঘশ্বাস, তীব্র আর্তনাদ
দু’চোখের জল পরিস্থিতি পাল্টে দ্যায়,
মৃতদেহ আরো দ্রুত ম’রে যেতে থাকে-
তখন তো শোকাহত মানুষের আরো কী কী করণীয় থাকে
প্রিয়জনদের, এমন কি শত্রুজন- তাঁদেরও।
আর্দশ মুমূর্ষ হ’লে তারও কি দশা হয়।
মানুষের মতো?
কী কী হয়?
সত্য কি হাঁপাতে থাকে?
প্রেম ঝ’রে যায়?
পবিত্রতা আবর্জনা থেকে তার নাক বের করে?
দু-একটা বিষন্ন ঘর, গাছপালা, উঠান, পুকুর-
এ- সব কতোটা ধ’রে রাখে?

মৃতদেহ যতোক্ষণ কবরে না-যায়
মনে হয় অর্ধেক দুয়ার খুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

সব তোমার

আমার অবনত দৃষ্টি তোমাকে দিলাম
মেঘলা আকাশের বিরহরাশি
বিচ্ছেদি ও বাউলা গান
আর নতজানু-সব তোমার।

ঘরের সর্বত্র বিভিন্ন বয়সে আরশোলা
দেওয়ালে পিঁপড়ার কাতার
দুঃসময়ের সঙ্গে লম্বা পাল্লা চালাচ্ছে
বিশ্বস্ত ও ক্লান্ত চরণ
পথের ধুলায় আল্পনা এঁকে এঁকে…..

কুন্ঠিত অবনত দৃষ্টি
বিরহী রোদন
রাঙা আল্পনা
তোমাকে দিলাম।
নারীর জেদের কাছে

বেহুলার আকুল রোদন
সন্তানের জন্য নয়,
বিধবা জা-দের মৃত স্বামীদের জন্য নয়।
দেবসভা যার নৃত্যের নূপূর ছন্দে
মেতে ওঠে যৌবন নেশায়
তা আরতীও নয়, পূজা নয় শুদ্ধ অভিনয়।
নারীর জেদের কাছে দেবতার গাঢ় অভিশাপ
খাটো হয়ে যায়।
শুধু কথাই তো বলি

আমাদের স্মৃতির ভান্ডার বেশ ভারি
এগারো পুরুষ ধরে চেটেপুটে খেতে পারো
ফুরোরে না।
গলায় শেকলের দাগ
হাতে হালুয়া রুটির ঘ্রাণ।
পিঠে চাবুকের অট্রহাসি
এসব বেবলই বিদেশীদের উপহার নয়।
গলা নামিয়েই তো বলছি
সঙ্গীতের ওস্তাদি তালিম নিয়েছ ভালো ক’রে
চেষ্টা করে দেখতো পারো
এর নিচে গলা নামাতে পারবে না।
শুধু কথাই তো বলি
এছাড়া আর কী!
ক্ষমতা কি আমাদের হাতে?
আত্মজীবনী

আত্মজীবনী ভাবনা-চিন্তা করে লেখা হয়ে থাকে,
ধূসর রোজ-নামচার নামগুলো
প্রয়োজনমতো কেটে-ছেঁটে…
তাছাড়া
উল্টোপাল্টা প্রতারক স্মৃতির দাপট তো আছেই।

যতই মৌলিক হোক
শেষযাত্রার কথা লিখতে হয় অন্য কাউকেই।

আত্মজীবনী মূলত অসম্পূর্ণ রচনা।
জিজ্ঞাসা

কী শস্য, কী ফল
কতোটুকু খুশি হয়
খাবার টেবিলে?
হাওড়-বিলের
নদী কী পুকুরের মাছ
কতখানি খুশি হেয়ে
ফিক্ করে হাসে
তোমার থালায়?

আত্মত্যাগী, সাধুসন্ত এরা?
এই শস্য, এই ফল
মাছ-মাংস
এরাও কি সাধু-সন্ত
আত্মত্যাগী মহান পুরুষ?
খাঁটি কথা

তুমিই আমার আসল এবং
লোভনীয় সূদ,
তুমিই আমার সকল ব্যারাম
আর তুমিই ওষুধ।
ঘুুরিয়ে দিই?

তোমার আঙিনায়
দুটি শালিকের
চঞ্চল নাচ-
চোখ ফেরানো যায় না।
আমার জানালায়
শুধু একটি শালিক
একটি মাত্র শালিক।
ঘুরিয়ে দিই আয়না?
তাহলে কিসের ভয়

নিদ্রাহীন, ঘুমহীন, একমাত্র মৃত্যুহীন তুমি
তোমার ইচ্ছায় এই সব আয়োজন।
নয় দরজার সীমাবদ্ধ সত্তা দিয়ে
বোঝা যায় তোমার মহিমা?
যদি সে স্বীকৃতি না পায় তোমার!
জানি মানুষের কষ্ট বড়ো বেশি আজ,
লজ্জা আর কৃতজ্ঞতা ক্রমাগত
স’রে যাচ্ছে দূরে,
প্রতি গৃহে আসন গেড়েছে
ভীতি আর প্রলোভন।
এই অসুস্থ পৃথিবী সকাতরে যাচে নিরাময়।
হেরার হীরক দ্যুতি
তোমার অমর বাণী-
তবে কি না,
যারা বিশ্বাস এনেছে
ক’রে থাকে সৎকর্ম
সত্য আর ধৈর্য ধারণের কথা নিজে মানে,
সারাক্ষণ বলা-কওয়া করে; তার নয়,
তুমিই তো বলেছ।
তুমি সদা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছ।
তাহ’লে কিসের ভয়?

PaidVerts